تجاوز إلى المحتوى

আকীদাহ অংশ

42 lessons · Select a question to read the answer

Your progress in this topicTrack completed lessons on this device
Choose how to study:
1প্রশ্ন ১: তোমার রব কে?

উত্তর: আমার রব আল্লাহ, যিনি আমাকে এবং সমগ্র জগতকে তাঁর নি‘আমাত দ্বারা প্রতিপালন করেন।

এর দলীল : আল্লাহ তা‘আলার বাণী: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ “আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।” [সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত: ০২]

Open lesson
2প্রশ্ন ২: তোমার দীন কী?

উত্তর: আমার দীন ইসলাম। আর ইসলাম হচ্ছে: তাওহীদের সাথে আল্লাহর গোলামী করা, অনুকরণ করার মাধ্যমে তার আনুগত্য করা এবং শিরক ও মুশরিক থেকে মুক্ত থাকা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ “নিশ্চয় আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত দীন হচ্ছে ইসলাম...।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১৯]

Open lesson
3প্রশ্ন ৩: তোমার নবী কে?

উত্তর: আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল...” [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯]

Open lesson
4প্রশ্ন ৪: তাওহীদের কালিমাটি উল্লেখ কর। এবং এর অর্থ কী?

উত্তর: তাওহীদের কালিমা হচ্ছে: لا إله إلا الله বা আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই, এ কথার অর্থ: আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ “জেনে রেখ, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন সত্য মাবুদ নেই...।” [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৯]

Open lesson
5প্রশ্ন ৫: আল্লাহ (‘আয্যা ওয়া জাল্লা) কোথায়?

উত্তর: আল্লাহ তা‘আলা আসমানে, ‘আরশের উপরে, সকল মাখলূকাতের উপর। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى “রহমান ‘আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্ব-হা, আয়াত: ০৫] তিনি আরও বলেছেন: وَهُوَ ٱلۡقَاهِرُ فَوۡقَ عِبَادِهِۦۚ وَهُوَ ٱلۡحَكِيمُ ٱلۡخَبِيرُ “আর তিনিই আপন বান্দাদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী,আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৮]

Open lesson
6প্রশ্ন ৬: ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল’ এ সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ কী?

উত্তর: এর অর্থ: আল্লাহ তা‘আলা জগতের জন্য তাকে সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন।

সুতরাং আমাদের ওয়াজিব হবে:

১. তিনি যা আদেশ করেছেন, তার আনুগত্য করা।

২. তিনি যেসব সংবাদ দিয়েছেন, তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা।

৩. তার অবাধ্য না হওয়া।

৪. তিনি যা শরী‘আত সম্মত করেছেন, তার বাইরে আল্লাহর ইবাদাত না করা। আর এটি হচ্ছে: সুন্নাহকে অনুসরণ ও বিদ‘আতকে বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমে।

আল্লাহ বলেছেন: مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ “যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করে, সে আল্লাহরই আনুগত্য করবে।...” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০], আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরো বলেছেন: وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى 3 إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى “আর তিনি নিজের পক্ষ হতে কোন কথা বলেন না, তা কেবলই ওহী যা তার প্রতি প্রেরণ করা হয়েছিল।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩-৪] আল্লাহ জাল্লা শানুহু বলেছেন: لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا “অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১]

Open lesson
7প্রশ্ন ৭: আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে কেন সৃষ্টি করেছেন?

উত্তর: আমাদেরকে তিনি শুধুমাত্র তাঁর ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাঁর কোন শরীক নেই।

খেল-তামাশার জন্য নয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ “আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে।” [সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬]

Open lesson
8প্রশ্ন ৮: ইবাদত কাকে বলে?

উত্তর: প্রকাশ্য ও গোপনীয় যে সব আমল ও কথাকে আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যার প্রতি আল্লাহ খুশি হন, তার সামগ্রীক নাম।

প্রকাশ্য ইবাদত: যেমন: তাসবীহ, তাকবীর ও তাহমীদের মাধ্যমে মুখ দিয়ে আল্লাহর যিকির করা, সালাত আদায় করা এবং হজ করা।

গোপনীয় ইবাদত: যেমন: তাওয়াক্কুল, ভয় করা এবং আশা করা।

Open lesson
9প্রশ্ন ৯: আমাদের ওপর মহা দায়িত্ব কী?

উত্তর: আমাদের ওপর মহা দায়িত্ব হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ।

Open lesson
10প্রশ্ন ১০: তাওহীদের প্রকারগুলো কী কী?

উত্তর: ১) তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ: আর তা হলো এ কথার বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তা‘আলাই সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, মালিক এবং পরিচালক, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই।

২) তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ: আর তা হলো ইবাদাতে আল্লাহকে একক গণ্য করা, সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করা যাবে না।

৩) তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত: আর তা হলো: কোন ধরণের নমুনা নির্ধারণ, সাদৃশ্য প্রদান ও নিষ্ক্রিয়করণ ব্যতীত কুরআন ও সুন্নাহতে আগত আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনা।

তিন প্রকার তাওহীদের দলীল: আল্লাহ তা‘আলার বাণী: رَّبُّ ٱلسَّمَـوَ ⁠تِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا فَٱعۡبُدۡهُ وَٱصۡطَبِرۡ لِعِبَـدَتِهِۦۚ هَلۡ تَعۡلَمُ لَهُۥ سَمِيًّا “তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও তাদের অন্তর্বর্তী যা কিছু আছে, সে সবের রব। কাজেই তাঁরই ইবাদাত করুন এবং তাঁর ইবাদাতে ধৈর্যশীল থাকুন, আপনি কি তাঁর সমনাম ও গুণ সম্পন্ন কাউকেও জানেন?” [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৬৫]

Open lesson
11প্রশ্ন ১১: সবচেয়ে মারাত্মক গোনাহ কী?

উত্তর: আল্লাহ তা‘আলার সাথে শিরক করা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রটনা করে।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৮]

Open lesson
12প্রশ্ন ১২: শিরক ও তার প্রকাগুলো কি? বল।

উত্তর: শিরক হচ্ছে: ইবাদতের প্রকারসমূহ যে কোন একটি ইবাদত গাইরুল্লাহর জন্য করা।

শিরকের প্রকারভেদ:

শিরকে আকবার (বড় শিরক): যেমন: আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য ডাকা, আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা‘আলা ছাড়া অন্যকে সিজদাহ করা অথবা আল্লাহ আয্যা ও জাল্লা ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবাই করা।

শিরকে আসগার (ছোট শিরক): যেমন: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা, তামীমাহ (তাবিজ) ঝুলানো, অর্থাৎ, কল্যাণ লাভ বা অকল্যাণ প্রতিরোধে মানুষ যে সব বস্তু ঝুলায়।আর সামান্য লৌকিকতা (রিয়া), যেমন: কোন ব্যক্তি তার সালাতকে সুন্দর করে, এ কারণে যে মানুষ তার দিক তাকাচ্ছে।

Open lesson
13প্রশ্ন ১৩: আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কেউ কী গায়েব (অদৃশ্যের খবর) জানে?

উত্তর: একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কেউই গায়েব (অদৃশ্যের খবর) জানে না।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: قُل لَّا يَعۡلَمُ مَن فِي ٱلسَّمَـوَ ⁠تِ وَٱلۡأَرۡضِ ٱلۡغَيۡبَ إِلَّا ٱللَّهُۚ وَمَا يَشۡعُرُونَ أَيَّانَ يُبۡعَثُونَ “বলুন! ‘আল্লাহ্ ব্যতীত আসমান ও জমিনের কেউই গায়েব জানে না এবং তারা উপলব্ধিও করেনা কখন তাদেরকে উত্থিত করা হবে।’ [সূরা আন-নামল, আয়াত: ৬৫]

Open lesson
14প্রশ্ন ১৪: ঈমানের রুকনসমূহ কয়টি?

উত্তর: ১. আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান।

২. তাঁর ফিরিশতাগণের প্রতি ঈমান।

৩. তাঁর (আসমানী) কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান।

৪. তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান।

৫. আখিরাত বা শেষ দিবসের প্রতি ঈমান।

৬. তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা।

দলীল: ইমাম মুসলিম বর্ণিত হাদীসে জিবরীল (আলাইহিস সালাম), যেখানে জিবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: «فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، قَالَ: أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ».

“আপনি ঈমান সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিন। তখন তিনি বললেন: ‘তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর মালায়েকা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখিরাত দিবস ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।”

Open lesson
15প্রশ্ন ১৫: ঈমানের রুকনগুলোর ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনা:

তুমি এ কথা বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তা‘আলাই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তোমাকে রিযিক দিয়েছেন। আর তিনিই সমস্ত মাখলূকের একমাত্র (একচ্ছত্র) মালিক ও মহাপরিচালক।

আর তিনিই মা‘বূদ (উপাস্য), তিনি ছাড়া কোন প্রকৃত মা‘বূদ নেই।

আর তিনিই বড় মহান, পরিপূর্ণ যার জন্যই সকল প্রশংসা। তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ সিফাত বা গুণাবলী। তাঁর কোন সমকক্ষ নেই এবং কোন কিছুই তাঁর সমতুল্য নয়। তিনি পবিত্র।

ফিরিশগণের প্রতি ঈমান:

ফিরিশতাগণ সৃষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর ইবাদাত করা ও আদেশের পরিপূর্ণ আনুগত্য করার জন্য।

- তাদের মধ্যে অন্যতম জিবরীল আলাইহিস সালাম, যিনি নবীদের নিকট অহী নিয়ে অবতরণ করেন।

কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান:

যে কিতাবগুলো আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের ওপর নাযিল করেছেন।

- যেমন: কুরআন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর।

- ইনজিল: ঈসা আলাইহিস সালামের উপর।

- তাওরাত: মূসা আলাইহিস সালামের উপরে।

- যাবূর: দাঊদ আলাইহিস সালামের উপরে।

সুহুফে ইবরাহীম এবং মূসা: ইবরাহীম ও মূসা আলাইহিমাস সালামের উপর।

রাসূলগণের প্রতি ঈমান:

তারা হচ্ছেন যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের নিকট প্রেরণ করেছেন, তাদের শিক্ষা দেওয়া, জান্নাত ও কল্যাণের সুসংবাদ দেওয়া এবং তাদেরকে মন্দ ও জাহান্নাম থেকে সতর্ক করার জন্য।

- নবীদের অন্যতম হচ্ছেন: উলুল ‘আঝম প্রত্যয়ীগণ (দৃঢ় সিদ্ধান্তে অধিকারী), তারা হচ্ছেন:

নূহ আলাইহিস সালাম,

ইবরাহীম আলাইহিস সালাম,

মূসা আলাইহিস সালাম,

ঈসা আলাইহিস সালাম,

এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান:

এটি হচ্ছে: মৃত্যুর পর কবরে, কিয়ামাতের দিবসে এবং পুনরুত্থান ও হিসাবের দিবসে যা হবে, সেখানে জান্নাতীগণ তাদের স্থানে আর জাহান্নামীগণ জাহান্নামে তাদের স্থানে অবস্থান করবে।

তাকাদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা:

তাকদীর: এটি হচ্ছে এ ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস করা যে, বিশ্বজগতে ঘটিত সবকিছু আল্লাহ জানেন, আর তিনি তা লাউহে মাহফূযে লিখে রেখেছেন, আর তিনি সেগুলোকে অস্তিত্বে আনা এবং সৃষ্টি করাকে চেয়েছেন।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقۡنَـٰهُ بِقَدَر “নিশ্চয় আমরা প্ৰত্যেক কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।” [সূরা আল-ক্বমার, আয়াত: ৪৯]।

- তাকদীরের প্রতি ঈমানের চারটি স্তর রয়েছে:

প্রথম স্তর: আল্লাহ তা‘আলার ইলম: এর মধ্যে রয়েছে - প্রতিটি বস্তু অস্তিত্বশীল হওয়ার আগে এবং পরে উক্ত বস্তু সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলার পূর্ব জ্ঞান।

এর দলীল আল্লাহ তা‘আলার বাণী: إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ “নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামাতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ূতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন্ স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” [সূরা লুকমান, আয়াত: ৩৪]।

দ্বিতীয় স্তর: আল্লাহ তা‘আলা সেগুলোকে লাউহে মাহফূযে লিপিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং যা কিছু ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে ঘটবে, তা তাঁর কাছে কিতাবে লিখিত রয়েছে।

এর দলীল আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ “আর গায়েবের চাবি তাঁরই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারসমূহে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত রয়েছেন, তাঁর অজানায় একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অংকুরিত হয় না বা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৫৯]

তৃতীয় স্তর: প্রতিটি বস্তু আল্লাহর চাওয়াতেই সংঘটিত হয়, কোন বস্তু বা সৃষ্ট তাঁর চাওয়া ছাড়া সংঘটিত হয় না।

এর দলীল আল্লাহ তা‘আলার বাণী: لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ “তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায়, তার জন্য। আর তোমরা ইচ্ছে করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ ইচ্ছে করেন।” [সূরা আত-তাকভীর: ২৮-২৯]

চতুর্থ স্তর: এ ব্যাপারে ঈমান আনা যে, সমগ্র সৃষ্টিজগত মাখলূক, যাকে আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করেছেন। তিনি এগুলোর সত্তা, বৈশিষ্ট্য, নড়াচড়া এবং জগতের মধ্যে বিদ্যমান সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন।

এর দলীল আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ “অথচ আল্লাহ্ই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা কর তা সৃষ্টি করেছেন।” [সূরা আস-সফফাত: ৯৬]

Open lesson
16প্রশ্ন ১৬: কুরআনের পরিচয় কী?

উত্তর: এটি হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার কালাম, যা মাখলূক নয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ... “আর যদি মুশরিকদের কেউ তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়...।” [সূরা আত-তাওবাহ: ০৬]।

Open lesson
17প্রশ্ন ১৭: সুন্নাহ কি?

উত্তর: সুন্নাহ হচ্ছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি কথা, কাজ, মৌন সম্মতি এবং সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

Open lesson
18প্রশ্ন ১৮: বিদ‘আত কি? আমরা কী তা গ্রহণ করব?

উত্তর: দীনের মধ্যে মানুষ যা নতুন করে তৈরী করেছে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবীগণের যুগে তা ছিল না, এমন প্রতিটি কাজ।

*আমরা বিদ‘আতকে প্রত্যাখ্যান করব, গ্রহণ করব না।

কেননা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বলেছেন: كل بدعة ضلالة “প্রত্যেক বিদ‘আত গোমরাহী।” এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।

বিদ‘আতের উদাহরণ: ইবাদাতের মধ্যে কোন কিছু বৃদ্ধি করা, যেমন: ওযুর মধ্যে বৃদ্ধি করা তথা: (অঙ্গসমূহ) চতুর্থবার ধৌত করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিনে অনুষ্ঠান করা; যেহেতু এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের থেকে বর্ণিত নয়।

Open lesson
19প্রশ্ন ১৯: মিত্রতা ও শত্রুতা (الولاء والبراء) এর আকীদা বর্ণনা কর।

মিত্রতা (الولاء): এটি হচ্ছে: মুমিনদেরকে ভালোবাসা এবং তাদের সহযোগিতা করা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ... “আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু...।” [সূরা আত-তাওবাহ: ৭১]

শত্রুতা (البراء): এটি হচ্ছে: কাফিরদের ঘৃণা করা এবং তাদের সাথে শত্রুতা করা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ “অবশ্যই তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ‘ইবাদাত কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হল শক্ৰতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহতে ঈমান আন।” [সূরা আল-মুমতাহিনাহ: ৪]

Open lesson
20প্রশ্ন ২০: আল্লাহ কী ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মকে গ্রহণ করবেন?

উত্তর: ইসলাম ছাড়া আল্লাহ অন্য কোন দীন বা ধর্মকে গ্রহণ করবেন না।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَن یَبتَغِ غَیرَ ٱلإِسلَـٰمِ دِینا فَلَن یُقبَلَ مِنهُ وَهُوَ فِی ٱلـَٔاخِرَةِ مِنَ ٱلخَـٰسِرِینَ “আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা আলে-ইমরান: ৮৫]

Open lesson
21প্রশ্ন ২১: কথা, কাজ ও আকীদাহ-বিশ্বাস দ্বারা কুফর হয়, এর উদাহরণ দাও।

উত্তর: কথার উদাহরণ: মহাপবিত্র আল্লাহ গালি দেয়া এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি-গালাজ করা।

কাজের উদাহরণ: (কুরআনের) মুসহাফকে অসম্মান করা অথবা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদাহ করা।

বিশ্বাসের উদাহরণ: এমন বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়াও কেউ ইবাদাতের উপযুক্ত রয়েছে অথবা আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য কোন সৃষ্টিকর্তা আছে।

Open lesson
22প্রশ্ন ২২: নিফাক কি এবং এর প্রকারগুলো কী?

উত্তর:

১- বড় নিফাক (النفاق الأكبر): এটি হচ্ছে: অন্তরে কুফুরী গোপন রেখে ঈমান প্রকাশ করা।

আর এটি ইসলাম থেকে মানুষকে বের করে দেয়। আর এটিই একটি বড় কুফর।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّ ٱلمُنَـٰفِقِینَ فِی ٱلدَّركِ ٱلأَسفَلِ مِنَ ٱلنَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُم نَصِیرًا “মুনাফিকরা তো জাহান্নামের নিম্নতমস্তরে থাকবে এবং তাদের জন্য আপনি কখনো কোন সহায় পাবেন না।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪৫]

২- ছোট নিফাক (النفاق الأصغر):

যেমন: মিথ্যাকথা বলা, ওয়াদার খেলাফ করা এবং আমানতের খিয়ানত করা।

এ ধরণের নিফাক ইসলাম থেকে বের করে দেয় না। এটি গোনাহের কাজ, আর যার মধ্যে এটি থাকবে তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: آية المنافق ثلاث: إذا حدث كذب، وإذا وعد أخلف، وإذا اؤتمن خان “মুনাফিকদের নিদর্শন তিনটি : যখন সে কথা বলবে মিথ্যা বলবে, যখন সে ওয়াদা করবে ভঙ্গ করবে আর যখন তাকে আমানতদার মানা হবে খিয়ানত করবে।” এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

Open lesson
23প্রশ্ন ২৩: সর্বশেষ নবী ও রাসূল কে?

উত্তর: তিনি হচ্ছেন: নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ “মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; তবে আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী। আর আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ।” [সূরা আল-আহযাব: ৪০] রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: وأنا خاتم النبيين لا نبي بعدي “আমিই সর্বশেষ নবী, আমার পরে আর কোন নবী নেই।” এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

Open lesson
24প্রশ্ন ২৪: মু‘জিযা কী?

উত্তর: মু‘জিযা: নবুওয়তের সত্যতা প্রমাণে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীদেরকে সাধারণ নিয়মের বাইরে যা দান করেছেন। যেমন:

- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া প্রদান করা।

- মূসা আলাইহিস সালামের জন্য সমুদ্রকে বিদীর্ণ করা, ফিরআউন ও তার সহযাত্রীদেরকে ডুবিয়ে ফেলা।

Open lesson
25প্রশ্ন ২৫: সাহাবী কারা? আমি কী তাদেরকে ভালোবাসবো?

উত্তর: সাহাবী: প্রত্যেক এমন ব্যক্তি, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার প্রতি ঈমান অবস্থায় দেখেছেন এবং ইসলামের উপরে (থাকা অবস্থায়) মারা গিয়েছেন।

- আমরা তাদেরকে ভালোবসাবো এবং অনুসরণ করবো, নবীগণের পরে তারাই অতি উত্তম ও সম্মানি মানুষ।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছেন: চার খলীফা:

আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু,

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু,

উছমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এবং

আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু।

Open lesson
26প্রশ্ন ২৬: উম্মাহাতুল মুমিনীন (মুমিনদের মাতাগণ) কারা?

উত্তর: তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ٱلنَّبِيُّ أَوۡلَى بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ مِنۡ أَنفُسِهِمۡۖ وَأَزۡوَجُهُۥٓ أُمَّهَتُهُمۡۗ “নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও ঘনিষ্টতর(১) এবং তার স্ত্রীগণ তাদের মা।” [সূরা আল-আহযাব, আহযাব: ০৬]

Open lesson
27প্রশ্ন ২৭: আমাদের উপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজনের হক কী?

উত্তর: আমরা তাদের মুহাব্বাত করব, তাদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করব, তাদের সাথে যারা শত্রুতা করে, আমরাও তাদের সাথে শত্রুতা করব। তারা হচ্ছেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ, তার সন্তান-সন্ততি, বনূ হাশিম এবং বনূ মুত্তালিবের বংশের মুমিনগণ।

Open lesson
28প্রশ্ন ২৮: মুসলিমদের শাসকবৃন্দের প্রতি আমাদের কর্তব্য কী?

উত্তর: আমাদের কর্তব্য: তাদেরকে সম্মান করা, তাদের আদেশ শোনা, পাপাচারের বিষয় ব্যতীত তাদের আনুগত্য করা, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করা, তাদের জন্য দু‘আ করা এবং গোপনে তাদেরকে নসীহত করা।

Open lesson
29প্রশ্ন ২৯: মুমিনদের স্থায়ী বাসস্থান কী?

উত্তর: মুমিনদের স্থায়ী বাসস্থান হলো জান্নাত। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ... “নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত...।” [সূরা মুহাম্মাদ,আয়াত: ১২]

Open lesson
30প্রশ্ন ২৯: কাফিরদের স্থায়ী বাসস্থান কী?

উত্তর: কাফিরদের স্থায়ী বাসস্থান জাহান্নাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ “সুতরাং তোমরা সে আগুন থেকে বাঁচার ব্যবস্থা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে কাফেরদের জন্য।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৪]

Open lesson
31প্রশ্ন ২৪: ভয় কী? আশা কী? এদের দলীল কী?

উত্তর: ভয়: আল্লাহ তা‘আলাকে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করা।

আশা: এটি হচ্ছে আল্লাহর সাওয়াব, ক্ষমা ও রহমতের আশা করা।

এর দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا “তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে, আর তারা তাঁর দয়া প্রত্যাশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার রবের শাস্তি ভয়াবহ।” [সূরা আল-ইসরা: ৫৭] আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন: نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ 49 وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ “আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন যে, নিশ্চয় আমিই পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর নিশ্চয় আমার শাস্তিই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা আল-হিজর: ৪৯-৫০]

Open lesson
32প্রশ্ন ৩২: আল্লাহ তা‘আলার কতিপয় নাম ও সিফাত উল্লেখ কর।

উত্তর: আল্লাহ (الله), রব (الرب), রহমান (الرحمن) (দয়াময়), মহাশ্রবণকারী (السميع), মহাদ্রষ্টা (البصير), মহাজ্ঞানী (العليم), রিযিকদাতা (الرزاق), চিরঞ্জীব (الحي), সুমহান (العظيم)... এছাড়াও আল্লাহ তা‘আলার আরো সুন্দর নাম ও উচ্চ গুণাবলী রয়েছে।

Open lesson
33প্রশ্ন ৩৩: এ নামসমূহের ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: আল্লাহ (الله): এর অর্থ হচ্ছে: প্রকৃত উপাস্য, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই।

রব (الرب): তথা: সৃষ্টিকর্তা, মালিক, রিযিকদাতা ও পরিচালনাকারী তিনি একক, সুমহান সত্তা।

মহাশ্রবণকারী ( السميع): যার শ্রবণ সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করেছে, বিচিত্রতা ও বিভিন্নতা থাকা সত্তেও যিনি প্রতিটি শব্দই শুনেন।

মহাদ্রষ্টা (البصير): যিনি প্রতিটি জিনিস দেখেন, এবং প্রতিটি বস্তু ছোট হোক অথবা বড় তিনি তা প্রত্যক্ষ করেন।

মহাজ্ঞানী (العليم): তিনি হচ্ছেন এমন সত্তা, যার জ্ঞান অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রতিটি বস্তুকেই আয়ত্ব করেছে।

রহমান (الرحمن): যার রহমত প্রতিটি মাখলূক ও জীবকে পরিব্যপ্ত করেছে। সুতরাং সকল বান্দা ও মাখলূক তার রহমতের আওতায়।

রিযিকদাতা (الرزاق): যার ওপর সমস্ত প্রাণী, মানুষ, জীন ও সমস্ত মাখলূকের রিযিকের দায়িত্ব

চিরঞ্জীব (الحي): এমন চিরঞ্জীব, যিনি কখনো মরবেন না। আর সমস্ত সৃষ্টি মরবে।

সুমহান (العظيم): যার নাম, গুণাবলী ও কর্মসমূহে রয়েছে সম্পূর্ণ পরিপূর্ণতা ও পরিপূর্ণ মহত্ব।

Open lesson
34প্রশ্ন ৩৪: মুসলিম আলিমদের প্রতি আমাদের কর্তব্য কী?

উত্তর: আমরা তাদের ভালোবাসবো, মাসআলা ও শরয়ী সমসাময়িক বিষয়ে তাদের শরণাপন্ন হব, তাদের ভালো দিকগুলো তুলে ধরব। আর যে এগুলো ছাড়া তাদের মন্দগুলো আলোচনা করবে, সে বিপথের ওপর আছে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَرۡفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا مِنكُمۡ وَٱلَّذِينَ أُوتُوا ٱلۡعِلۡمَ دَرَجَـٰتۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِير “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ্ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন; আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ১১]

Open lesson
35প্রশ্ন ৩৫: আল্লাহর ওলী কারা?

উত্তর: মুমিন মুত্তাকীগণ।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ “জেনে রাখা আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত।“ [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬২-৬৩]

Open lesson
36প্রশ্ন ৩৬: ঈমান কী কথা ও কাজ?

উত্তর: ঈমান হচ্ছে কথা, কাজ ও দৃঢ় বিশ্বাস।

Open lesson
37প্রশ্ন ৩৭: ঈমান কী বাড়ে এবং কমে?

উত্তর: ঈমান নেককাজের মাধ্যমে বাড়ে এবং পাপের মাধ্যমে কমে যায়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ “মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের রবের উপরই ভরসা করে।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ০২]

Open lesson
38প্রশ্ন ৩৮: ইহসান কী?

উত্তর: ইহসান হচ্ছে: তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, তবে যদি তুমি তাঁকে দেখ, তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।

Open lesson
39প্রশ্ন ৩৯: আমলসমূহ কখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়?

উত্তর: দুটি শর্তে:

১- যখন আমলসমূহ শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য হয়।

২- আর যখন তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী হবে।

Open lesson
40প্রশ্ন ৪০: আল্লাহ তা‘আলার উপর তাওয়াক্কুলের অর্থ কী?

উত্তর: এর অর্থ হচ্ছে: উপকরণ গ্রহণ করার সাথে সাথে উপকার লাভ ও ক্ষতি প্রতিরোধ করাতে আল্লাহর ওপর ভরসা করা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ... “আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট...।” [সূরা আত-ত্বলাক, আয়াত: ০৩]

حَسْبُهُ অর্থ: كافيه তথা: যথেষ্ট।

Open lesson
41প্রশ্ন ৪১: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ব্যাপারে দায়িত্ব কি?

সৎকাজ (المعروف:): এটি হচ্ছে, প্রতিটি ইবাদত আল্লাহ তা‘আলার জন্য করার আদেশ। আর অসৎকাজ (المنكر): এটি হচ্ছে: আল্লাহর জন্য প্রতিটি মন্দ কাজ থেকে বারণ করা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ ... “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য যাদের বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দিবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনবে...।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১১০]

Open lesson
42প্রশ্ন ৪২: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত কারা?

উত্তর: তারা হচ্ছেন, কথা, কাজ ও আকীদাহর (বিশ্বাসের) দিক থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ যার ওপর ছিলেন, তারা তার উপরেই থাকেন।

তাদের আহলুস সুন্নাহ নামকরণ করা হয়; কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ করেন এবং বিদ‘আতকে পরিহার করেন।

ওয়াল জামা‘আহ: কেননা তারা হকের উপর একত্রিত এবং তাতে পরষ্পর আলাদা হননি।

Open lesson